সরকারি বাস সার্ভিস
আমাদের পুরো কেরালা ঘোরা সরকারি বাসে করেই; থেক্কেডিতে যে হোম স্টে-তে ছিলাম সেখান থেকে ৮০০মিটার হেঁটে গেলে কুমলী কে.এস.আর.টি.সি. বাস স্ট্যান্ড; সকাল থেকেই প্রতি ঘন্টায় বাস আছে আলেপ্পির; তবে আমরা সরাসরি আলেপ্পি না গিয়ে চললাম কোট্টায়ামের দিকে; সময় লাগলো ৪ ঘন্টা মত; বাস স্ট্যান্ড থেকে ফেরি ঘাট পর্যন্ত হেঁটে যেতে সময় লাগবে ১০/১২ মিনিট মত; এখান থেকে আলেপ্পি সহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি টাউনের সরকারি ফেরি সার্ভিস চলে; আমরা যাব আলেপ্পির দিকে।
কোট্টায়াম বাস
কোট্টায়াম থেকে আলেপ্পির লঞ্চ
সকাল ৬:৪৫
১১টা ৩০মিনিট
দুপুর ১টা
৩টে ৩০মিনিট
বিকেল ৫টা ১৫মিনিট
আলেপ্পি যাবার সবচেয়ে ভাল টাইমিং বেলা ১১টা ৩০ বাঁ দুপুর ১টার কিন্তু যদি পথে সূর্যাস্ত দেখতে চান তাহলে ৩টে ৩০-এর ফেরি নেওয়া সবচেয়ে ভাল।
ব্যাক ওয়াটার
কেরালা বেড়াতে এলে ব্যাক ওয়াটার সবার আগে জায়গা পাবে এটাই স্বাভাবিক; তার কারণ অবশ্যই আছে; তবে আমরা ব্যাক ওয়াটার এক্সপ্লোর করেছি একটু অন্যভাবে; হাউস বোটে না থেকে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ভেসে চলেছি... এই পুরো পরিসেবা সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলে; কোট্টায়াম থেকে ওইদিন লঞ্চ কোন কারনে না থাকার কারনে পরের স্টপেজে গিয়ে পৌছালাম বাসে করে; মিনিট ১০ লাগল; বাস রাস্তা থেকে ব্যাক ওয়াটার ঘাট পর্যন্ত হেঁটে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা অদ্ভুত সুন্দর; কচুড়ি পানায় ভর্তি ব্যাক ওয়াটার আর দুই পারে মানুষের বসতি... প্রতিটা বাড়ির সামনে ছোট্ট একটা জলযান রাখা; এর মাধ্যমেই চলে রোজকার যাতায়াত; ফেরি ঘাট বলতে ছোট্ট একটা ছাউনি দেওয়া; আর যাত্রি বলতে মাত্র ৫জন; কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর লঞ্চ এল; যাত্রা শুরু হল; লঞ্চ যত এগিয়ে চলে দুপাশে চোখে পড়ে মানুষের বসতি; অলস দুপুরে দাওয়ায় বসে অবসর যাপন চোখে পড়ে; ভাবছিলাম এই মানুষগুলোর জীবনযাত্রা ঠিক কেমন? কিভাবে রোজকার দিন কাটে? এখানে বসবাস মানে চাষ আর এই জলের মাছের উপর এদের অনেকটা নির্ভরশীলতা; লঞ্চে আমাদের বয়সী একজনের সাথে পরিচয় হল সেও আলেপ্পি যাবে; সেই বলছিলেন তাদের জীবন যাত্রার কথা; খানিক বাদেই আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামলো; প্রথমে ঝড় তারপর বৃষ্টি... উফ... অপূর্ব সব দৃশ্য... লিখে প্রকাশ করা যাবে না... ভিজ্যুয়ালি কিছুটা দেখানোর চেষ্টা
কোট্টায়াম ব্যাক ওয়াটার
আলেপ্পি ব্যাক ওয়াটার
সমুদ্রের ধারে সস্তার স্টে
আমরা ছিলাম গ্রামের একদম শেষের দিকে; ফলে এদিকে কোন টুরিস্ট নেই; এবং খাবার দোকানও নেই; ফলে হেঁটে অনেকটা বাজারের দিকে এসে খাওয়া দাওয়া করতে হবে; রাত্রের অন্ধকারে গ্রামের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাবার অভিজ্ঞতা অদ্ভুত একটা রোমাঞ্চকর; আমরা পরেরদিন অনেকটা সকালে উঠে জানালা দিয়েই দেখছিলাম সমুদের ঢেউ; বাইরে জেলেরা কখন যে বেরিয়েছিল জানিনা, তখন দেখছি মাঝ সমুদ্র থেকে ফিরে আসছে; সমুদ্রের বালির মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে জালগুলো পড়ে আছে; আমরা অলস পায়ে হেঁটে হেঁটে মূল আলেপ্পি বিচের দিকে চললাম; প্রায় ৩৫ মিনিট পর পৌঁছালাম আলেপ্পির বিখ্যাত 'সি পিয়ারে'র সামনে; হাতে গোনা কিছু টুরিস্ট ছবি তুলছে; দু একটা আইস ক্রিমের গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে; অন্য সময়ে এই সৈকত মানুষে ভরে থাকে; আমরা কিছুক্ষণ থেকে চললাম ব্রেকফাস্টের জন্য; সমুদ্রের ধারেই রাস্তার পাশে একটা হোটেলে।
আলেপ্পিতে প্রধান ঘোরার যায়গা
১) ব্যাক ওয়াটার (হাউস বোট, শিকারা বোট, সাধারণ বোট)
২) আলেপ্পি সমুদ্র সৈকত
৩) লাইট হাউস
৪) পুন্নাপ্রা সৈকত
৫) মারারি সৈকত
৬) ভেম্বানাড লেক
৭) পাথিরামানাল
৮) আম্বালাপুজা টেম্পল
৯) মুল্লাক্কাল রাজ্যেশ্বরী টেম্পল
১০) সেন্ট মেরি ফোরেন্স চার্চ
এই রাত্রি আলেপ্পিতে খরচ
১) থেকেড্ডি - কোট্টায়াম বাস: ১২৮টাকা
২) কোট্টায়াম - কাঞ্জিরাম বাস: ২১টাকা
৩) ব্যাক ওয়াটার সার্ভিস: ২৯ টাকা
৪) দুপুরের ফিস মিল: ৬০টাকা
৫) আটো - হোটেল পর্যন্ত: ১০০টাকা
৬) হোটেল (এসি) - আলেপ্পি: ৯০০টাকা
৭) রাত্রের খাবার: ৮০টাকা
এছাড়া সারাদিন স্থানীয় স্নাকস, চা ইত্যাদির আলাদা খরচ আছে।
কিছু জরুরী তথ্য
থেকেড্ডি অর্থাৎ কুমলি বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ১ ঘন্টা ছাড়া বাস আছে আলেপ্পির; আমরা অবশ্য সরাসরি বাস না নিয়ে অন্য একটা টাউনে গেলাম; প্রধান কারণ, ওই জায়গা থেকে আলেপ্পির সরকারি ব্যাক ওয়াটার সার্ভিস আছে; টাকার উপর বোটের মান ওঠা নামা করবে; তবে দুপাশের মনোরম প্রকৃতি একই থাকবে; আমরা সরকারি ফেরি সার্ভিসে পুরোটা ঘুরেছি; মাত্র ২৯টাকায়; এবং সাথে একাধিক গ্রামের প্রকৃতি আর জীবনের ছোঁয়া... কেরালা এলে এরকম গ্রামের মধ্যের চিত্র পাওয়ার মজাই আলাদা। ওই পথের ভিজ্যুয়াল আর অন্যান্
শেষে পর্বে আলেপ্পি থেকে কোচি যাবার সহজতম উপায় এবং ফোর্ট কোচি ঘোরার গল্প নিয়ে আসছি।

0 মন্তব্যসমূহ